মিলার অভিযোগ, নওশীনের অস্বীকার

বুধবার রাজধানীর বেইলি রোডের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন ডেকে মিলা অভিযোগ করেন, তার স্বামী পারভেজ সানজারির সঙ্গে নওশীনের সম্পর্ক তাদের দাম্পত্যে প্রভাব ফেলেছিল।

এই অভিযোগ নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে নওশীন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এটা ‘ভুল বোঝাবুঝি’।

২০১৭ সালের মে মাসে পারিবারিকভাবে বৈমানিক পারভেজ সানজারির সঙ্গে বিয়ে হয় মিলার। নানা টানাপড়েনের মধ্যে গত বছর আনুষ্ঠানিকভাবে বিচ্ছেদ ঘটে তাদের।

বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ হিসেবে সানজারির সঙ্গে ‘একাধিক নারীর প্রেমের সম্পর্কের’ অভিযোগও তুলেছিলেন এ সংগীতশিল্পী।

সংবাদ সম্মেলনে মিলা অভিযোগ করেন, নওশীনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল তার স্বামীর। দু’জনের অন্তরঙ্গ ছবি হাতে পেয়ে নওশীনের স্বামী আদনান হিল্লোলকে জানালেও বিষয়টি নিয়ে কোনো সুরাহা পাননি।

সানজারির সঙ্গে পরিচয় থাকলেও তার সঙ্গে ‘প্রেমের সম্পর্ক ছিল না’ বলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান নওশীন।

মিলার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক নওশীনের। পেশাগত সম্পর্কের বাইরে পারিবারিকভাবেও একে অন্যের শুভাকাঙ্ক্ষী ছিলেন তারা।

‘মিলাকে অনেক পছন্দ করেন’ জানিয়ে নওশীন বলেন, “তার অভিযোগগুলো ভুল। আমার নিজেরও সংসার আছে; এটা সবাই জানে। তাহলে আমার সংসার কীভাবে ঠিক থাকে? আর আমার সংসার রেখে ওর ঘর ভাঙব কেন?”

মিলার বৈমানিক স্বামীর সঙ্গে বিমানবন্দরে একবার দেখা হয়েছিল বলে জানান নওশীন। তার দাবি, এছাড়া আর কখনও দেখা হয়নি।

মিলার অভিযোগ, সম্পর্কের বিষয়টি হিল্লোলকে জানানোর পর তার বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ করেন হিল্লোল-নওশীন।

এ অভিযোগও উড়িয়ে নওশীন বলেন, “ওর নামে কোথাও কোনো মামলা করিনি আমরা, করবোও না। তার নামে কেন মামলা করব? ওর জীবনটা সুন্দর হোক।”

স্বামীর মোবাইলে নওশীনের ছবি পাওয়ার কথাও সাংবাদিকদের জানিয়েছেন মিলা। বিষয়টি নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলে নওশীন বলেন, “তার স্বামীর মোবাইলে আমার ছবি থাকলে আমি কী করতে পারি?”

‘ভুল বোঝাবুঝি’ থেকেই মিলা এমন অভিযোগ করছেন বলে দাবি করেন এ অভিনেত্রী। অভিযোগের কারণ হিসেবে তার নামে থাকা একাধিক ভুয়া ফেইসবুক অ্যাকাউন্টকে দায়ী করলেন নওশীন।

“ফেইসবুকে আমার নামে অনেক ফেইক একাউন্ট আছে। সেগুলো নিয়ে অনেক যন্ত্রণা সহ্য করেছি। কোনো ফেইক একাউন্ট থেকে ওর স্বামীর সঙ্গে চ্যাটিং পেয়েছে।”

গত বছরের জুনে সানজারি তার ফেইসবুক ফ্রেন্ডলিস্টে ছিলেন জানিয়ে নওশীন বলেন, “তার স্বামীর সঙ্গে এমন কোনো কথা আমি বলিনি।

“তখন আমেরিকা ছিলাম। আমেরিকায় বসে কীভাবে সম্পর্ক মেইনটেইন করলাম? পরে আমার স্বামীও আমেরিকায় ছিল আমার সঙ্গে। বিষয়টি আমি বদার করিনি। কারণ ও ভুল বুঝছে।”

বিষয়টি নিয়ে মিলার সঙ্গে কথা বলতে গেলে ‘গালি’ খেয়েছেন বলে জানান তিনি। নওশীন বললেন, তার মাথা ঠাণ্ডা হলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন।

এখনও তিনি মিলার জন্য শুভকামনা জানান নওশীন; বলেন, “আমিও চাই, ওকে যে নির্যাতন করা হয়েছে তার সুষ্ঠু বিচার হোক।”

মিলা তার শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগও এনেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *